ছুরিকাঘাত করে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই, ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৩

38
পাবনায় ছুরিকাঘাত করে ব্যবসায়ীর ১৩ লাখ টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক ৩ জন।
পাবনায় ছুরিকাঘাত করে ব্যবসায়ীর ১৩ লাখ টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক ৩ জন।

সবুজ সিলেট ডেস্ক
পাবনার আতাইকুলায় এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১৩ লাখ টাকা (নগদ প্রায় ছয় লাখ টাকা ও আরও সাত লাখ টাকার চেক) ছিনতাই করে পালানোর সময় পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন মৃধা ও তার দুই সহযোগীকে আটকে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বৃহস্পতিপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন- পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন মৃধা (২৭) এবং তার সহযোগী রানা হক (২৭) ও শিপন হোসেন (২৫)।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার দুপুরে সাঁথিয়া এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলে মুসা নগদ পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা ও সাত লাখ টাকার চেক অগ্রণী ব্যাংকের আতাইকুলা শাখায় জমা দিতে যাচ্ছিলেন। পথে বৃহস্পতিপুর বাজার এলাকায় ভিড়ের মধ্যে রুহুল আমিন ও তার অনুসারীরা মুসাকে ছুরিকাঘাত করে ব্যবসায়ী সিরাজুলের কাছ থেকে টাকা ও চেক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা রুহুল ও তার তিন সঙ্গীকে আটকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটক রুহুল আমিন ছাত্রলীগ করেন কি-না তা তার জানা নেই। তবে উপস্থিত জনতা ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।’

ওসি জানান, আটক তিনজনকে আতাইকুলা থানায় আনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ চার লাখ বিশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে আতাইকুলা থানায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিরাজুল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত ব্যবসায়ী সিরাজুলের ছেলে মুসাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু ইউনুস সমকালকে বলেন, ‘রুহুল আমিন ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।’

পাবনা জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শিবলী সাদিক সমকালকে বলেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর সুপারিশে রুহুল আমিনকে ছাত্রলীগের কমিটিতে নেওয়া হয়েছিল।’

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না। অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।’