তাহিরপুর সীমান্তের পাহাড়ি ছড়ার তলদেশ বালুতে ভরাট: এক হাজার একর জমি চাষাবাদের অনুপযোগী

11

আমিনুল ইসলাম,তাহিরপুর::
সাম্প্রতিক বন্যায় ঢলের পানির সাথে বালু পাথর এসে সীমান্ত এলাকার ৯’টি পাহাড়ি ছড়া দিয়ে প্রায় এক হাজার একর ফসলী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে তাহিরপুর সীমান্তে নেমে আসা ছড়া গুলো হলোঃ নয়াছড়া,পাতিল ভাঙ্গা ছড়া,রঙ্গাছড়া,বুরুঙ্গাছড়া,লাকমাছড়া,লালঘাট ছড়া,চারাগাঁও ছড়া,বাগলীছড়া ও বাঁশতলা ছড়া। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, এ ছড়াগুলোর অবস্থান উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ও বড়দল উত্তর ইউনিয়নে। চারাগাঁও ছড়া এলাকাতে কথা হয় চারাগাঁও গ্রামের চান মিয়া মুন্সী(৭৫) এর সাথে।

তিনি এক আলাপচারিতায় বলেন, আমি ছোট সময় দেখেছি পাহাড় থেকে নেমে আসা চারাগাঁও ছড়াটি ছিল খুবই গভীর। এ ছড়ার পানি বাঁশতলা,লালঘাট হয়ে সমসার হাওরে গিয়ে দ্রুত সময়েই পানি নেমে যেতো। কিন্তু গত প্রায় দুই যুগ ধরে ছড়াগুলোতে মেঘালয় পাহাড় থেকে প্রচুর পরিমাণ বালিপাথর এসে ছড়াগুলো ভরে যায়। এতে করে পাহাড়ী ঢল আসা মাত্রই ছড়ার পানি উপচে আশপাশের সকল ফসলি জমি বালুর নীচে পড়ে চাষাবাদের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন,চারাগাঁও ছড়া এলাকায় তাহার ৩ কিয়ার(৩০ শতকে এক কিয়ার) জমি ছিল,তা তিনি ১৫/১৬ বছর ধরে চাষাবাদ করতে পারছেন না।

উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মুতালিব বলেন, ২০০৮ সালে মেঘালয় পাহাড় ধ্বসে চানপুর এলাকার নয়াছড়ায় প্রায় ২’শ একর ফসলী জমি বালুর নীচে পড়ে যায় এবং ৫০টি বসতঘর বালুর নীচে চাপা পড়ে। এ নিয়ে তারা উন্নয়ন সংস্থা ‘বারসিক’র সহযোগীতায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে বিভিন্ন দাবী দাওয়া তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন,তাহিরপুর সীমান্তে যে ৯’টি পাহাড়ী ছড়া রয়েছে সে ছড়াগুলো থেকে বালু পাথর না সড়ালে সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট কিছুই রক্ষা করা যাবে না।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার ৯টি পাহাড়ী ছড়া বালুতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সীমান্ত এলাকার প্রায় এক হাজার একর ফসলী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন,তাহিরপুর উপজেলার পাহাড়ি ছড়াগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় চড়ার পানি আশপাশের চারদিকে ছুটে আসছে। এতে করে এলজিইডি’র নির্মানাধীন রাস্তাঘাটের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। ছড়াগুলো খনন করা অতীব জরুরী।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তের পাহাড়ী ছড়াগুলো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, সুনামগঞ্জ- ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। এ সময় তাহার সাথে ছিলেন,তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ,২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জ এর উপ অধিনায়ক মাহবুবুর রহমান ও সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম। তারা সীমান্তের চারাগাঁও ও নয়াছড়া এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

২৮’বিজিবি সুনামগঞ্জ এর উপ অধিনায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন, সীমান্তের ২’শ গজ এর ভিতরে থেকে কাজ করতে হবে। এলাকার লোকজন অনেক সময় কাজ করতে করতে সীমান্তের ভেতরে চলে যায়। এ নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ২’শ গজের বাহিরে থেকে বালু উত্তোলন করতে হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে পত্র দ্বারা অবহিত করতে হবে।
সুনামগঞ্জ- ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,মেঘালয় পাহাড় থেকে বালু ও নুরি পাথর এসে তাহিরপুর উপজেলার ছড়াগুলো ভরে যাওয়ায় ছড়াতে সামান্য পানি হলেই উপচে গিয়ে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ছড়াগুলো খনন করতে প্রশাসন ও এলাকার দায়িত্বশীলদের সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।