বিয়ানীবাজারে ২ কোটি টাকা মূল্যের জমিজমা নিয়ে দু’পক্ষে উত্তেজনা

22

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার::
বিয়ানীবাজারের পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মূল্যবান ভিপি সম্পত্তি বন্দোবস্থ নিতে দু’পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপক্ষের দাবী, জাল কাগজপত্র সৃজন করে তাদের দখলে থাকা ভূমি ফের বন্দোবস্থ নেয়ার পায়তারা করছে অপর একটি ভূমিগ্রাসী চক্র। অপরপক্ষ বলছে, জমির বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য তারা বিগত দিনে খাজনা পরিশোধ করেছে।

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং সহকারী কমিশণার (ভূমি) কার্যালয়ের নজরে আনা হলে বন্দোবস্থ প্রক্রিয়াটি আটকে দেয় প্রশাসন। ওই ভূমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ফতেহপুর মৌজার (জেএল নং ১০৭, দাগ নং ৬৩৪) মূল্যবান কিছু জমি ১৯৬৭ইং সনে জনৈক তাহির আলী আলীর নামে বন্দোবস্থ (ভিপি-২৯৮/ ৬৬-৬৭ ও ভিপি-১৮/ ৬৮-৬৯) প্রদান করে জেলা প্রশাসন। তখন থেকে ওই জমির রক্ষণাবেক্ষনসহ নিয়মিত খাজনা প্রদান করতে থাকেন তাহির আলী। কয়েকবছর পর একটি মহল ওই সরকারি জমির মালিকানা দাবী করে আদালতে মামলা দায়ের করে।

এদিকে আদালতে মামলা চলমান থাকায় স্থানীয় ভূমি অফিস তাহির আলীর পক্ষে খাজনা আদায় বন্ধ করে দেয়। এ সুযোগে জনৈক সুনাম উদ্দিন ও ফয়সল আহমদ নামীয় ব্যক্তিদ্বয় অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে ওই জমির একসনা বন্দোবস্থ নেন। এতে সহকারী কমিশণার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার বাদশাহ মিয়া, সদর তফশিল অফিসের তফশিলদারসহ আরো একাধিক অসৎ কর্মচারী সহায়তা করেন বলে অভিযোগ আছে।

নিজের পিতার নামে বন্দোবস্থ নেয়া জমি জাল-জালিয়াতি ও ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মচারীর কারণে বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওমর হোসেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তর এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে ভূমিগ্রাসী ওই চক্র। তবে এসব বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি অপরপক্ষের ফয়সল আহমদ।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশণার (ভূমি) খুশনুর রুবাইয়াত বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মাহবুব জানান, বিষয়টি আমার নজরে আছে। আইন ও বিধি অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।