শেরপুরে তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

1

অনলাইন ডেস্ক: শেরপুরের নকলা উপজেলায় শফিউজ্জামান রানা নামে এক সাংবাদিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার (৫ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ। এসময় ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন ওই সাংবাদিকের ছেলে শাহরিয়ার মাহিনকে ‘তোর বাপের মতো তুইও চোর হতে যাচ্ছিস’ এমন কথা বলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রেপ্তার সাংবাদিকের ছেলে শাহরিয়ার জামান মাহিন।

শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে দৈনিক দেশ রূপান্তরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানার ছেলে শাহরিয়ার জামান মাহিনের (১৫) সঙ্গে কথা বললে তিনি এ কথা জানান।

শাহরিয়ার জামান মাহিন বলেন, সেদিন বাবার সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম, আব্বু তথ্যের জন্য একটি কাগজ নিয়ে গিয়েছিলেন। কাগজ নিয়ে যাওয়ার পর অফিসের এক স্টাফকে আব্বু বলছিলেন কাগজে স্বাক্ষর করে দিতে। পরে ওই স্টাফ বলেন, ইউএনও স্যার মিটিংয়ে আছেন, আপনি একটু বসেন। পরে আব্বু বলেন, আমার জরুরি একটু শেরপুর যেতে হবে, আপনি একটু দেখেন। তারপর ওই স্টাফ বলেন কীসের যেন ফি লাগবে। আব্বু বলেন, কোনো নিয়মে তো এই ফি নেই। যদি লাগে তবে আমি দেবো।

মাহিন জানান, এরপর আব্বু ফোন করে এটা কাকে যেন জিজ্ঞেস করছিলেন। তখন ইউএনও ম্যাডাম মিটিং ছেড়ে এসে বলেন, চোরকে এখানে কে ঢুকতে দিয়েছে, পুলিশ ডেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় তিনি আমাকেও গালিগালাজ করেন। আমাকে তিনি বলেন, তোর বাপের মত তুইও চোর হতে যাচ্ছিস।

পরে পুলিশকে ডেকে আনেন ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিহাবুল আরিফকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার নির্দেশনা দেন। সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন, ওই বাচ্চা তো এখন তার বাবার পক্ষে বক্তব্য দিবেই। সে সময় (আদালত পরিচালনার সময়) ওই সাংবাদিক বলার চেষ্টা করছিল আমরা যেন ওই বাচ্চাকেও আসামি করি। তখন আমরা বলেছি, ওই ছেলেকে আমরা কোনো অবস্থাতেই আসামি করব না। এখন মা-বাবা যা শিখিয়ে দিচ্ছে সেটাই সে বলছে।

ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের দাবি, ইউএনও অফিসে ঢুকে গোপন তথ্যের ফাইল নেওয়ার জন্য টানাটানি করেন ওই সাংবাদিক। বাধা দিলে অফিসের এক নারী কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় এক মুক্তিযোদ্ধাকেও ধাক্কা দেন। পরে ওই সাংবাদিক বের হয়ে উচ্চস্বরে গালিগালাজ করতে থাকেন। রুম থেকে বের হয়ে দেখি অনেক লোকজন। এ সময় পুলিশও এসেছে। সহকারী কমিশনার ছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী বন্যা আক্তার বলেন, গত মঙ্গলবার আমার স্বামী রানা ও ছেলে শাহরিয়ার জাহান মাহিনকে (১৫) সঙ্গে নিয়ে একটি প্রকল্পের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন। আবেদন করার পর আবেদনের রিসিভ কপি চান তিনি। এ সময় ইউএনওর অনুমতি ছাড়া রিসিভ কপি দেবেন না বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) শিলা আক্তার।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও ইউএনওকে না পেয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসককে মোবাইলে ফোনে বিষয়টি জানান আমার স্বামী। হায়রানির কথা উচ্চস্বরে ইউএনওর কার্যালয়েই বলেন তিনি। এতে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে মিটিং শেষ না করেই মিটিং রুম থেকে বের হন। পরে পুলিশকে ডেকে আনেন ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিহাবুল আরিফকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেন আমার স্বামীকে।

এ ঘটনায় শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুকতাদিরুল আহমেদ বলেন, ওই সাংবাদিক ইউএনও অফিসে গিয়ে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন এবং এক বীর মুক্তিযোদ্ধা কেউ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। অফিসের ডকুমেন্ট নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। এমন সময় আটক করা হয়। এসময় অফিসের পরিস্থিতিও অবনতি হয়। পুলিশও চলে এসেছিল। পরে আমাদের এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।