বিয়ে করে স্বামীকে ঘরে তোলেন যে মেয়েরা

37

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর মেয়েরা পরিবার ছেড়ে চলে যান শ্বশুর বাড়িতে। তবে এদেশেরই বড় একটি জনগোষ্ঠীতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে ছেলেরা বিয়ের পর নিজের পরিবার ছেড়ে চলে যান স্ত্রীর বাড়িতে। সারাজীবনের জন্য সেখানেই সংসার করেন তারা।
ধুমধাম করে নেচে গেয়ে আয়োজন করা হয় সেই বিয়ের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাওয়াত পান নারীরা। যথাযথভাবে স্বাগত জানিয়ে বরণ করা হয় বরকে। এরপর, ফুলের মালা পড়িয়ে, নাচের তালে তালে বরকে মেয়ের বাড়িতে তোলা হয়।
যদিও এর আগে, ঘণ্টা বাজলে ছেলে-মেয়ে উভয়কে সাজিয়ে আনা হয় গির্জায়। সেখানেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করান তাদের ফাদার। বিয়ের পর মেয়েরা স্বামীকে নিয়ে চলে যান বাবার বাড়ি। মা, বোন, খালাদের সাথে ছেলেদের নিয়ে সংসার করেন মেয়েরা।
এই রীতি মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার। বিশেষ করে মাতৃপ্রধান খাসিয়াদের প্রাচীন ঐতিহ্য এটি। যাদের প্রধান ব্যবসা পান, সুপারী ও জুম চাষ। এরা অধিকংশই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী।
স্থানীয় জানান, বিয়ের কাজ শেষ হলে কেক কাটা হয়। সেখানে বর-কনে একে অপরকে কেক খাওয়ানো হয়। তারা বিশ্বাস করেন, কেকে কাটার কারণ, সম্পর্কের একটি চিহ্ন। যার অর্থ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সম্পর্কের একটি প্রতীক থাকে তাদের মধ্যে। এটাই তাদের সংস্কৃতি।
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির নেতা জিডিসন প্রধান সুচিয়াং জানান, ছেলে যতই সম্পদশালী হোক তাকে এক রাতের জন্য হলেও মেয়ের বাড়িতে থাকতে হবে। এটাই তাদের পুরোনো রীতি।
খাসিয়াদের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম চাষাবাদ, পুরুষরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হন না। তাই বাধ্য হয়েই তারা বিয়ের পর স্ত্রীর বাড়িতেই ঘর সংসার করেন। তবে বর্তমানে এ রীতি কঠোরভাবে মানার ক্ষেত্রে অনেকটাই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। কৃষি কাজ ছেড়ে অনেকে এখন অন্য চাকরি করেন। ফলে চাষাবাদ করার জন্য স্ত্রীর উপর নির্ভর হতে হচ্ছে না তাদের।