এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি

15

অনলাইন ডেস্ক: জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দু’স্বামীর মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। তারা দু’জনই দাবি করছেন যে তারা ওই নারীর বৈধ স্বামী।

রোববার (১৭মার্চ) এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল সদর ইউনিয়নের ভাটিচারিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হৃদয় মিয়া দেড় বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জ থানার সরিষা ইউনিয়নের সরিষা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ছালমা আক্তার মীমকে (২৫) বিয়ে করেন। প্রায় দেড় বছরের এ সংসার জীবন তাদের শান্তিতেই চলছিল, কিন্তু গত ৫ মার্চ মীম স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজের পর থেকেই স্বামী হৃদয় মিয়া তার স্ত্রীকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এরপর গত ১৫ মার্চ মীম তার স্বামী হৃদয় মিয়াকে মোবাইল ফোনে জানান, তিনি জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের আওয়ালপাড়া গ্রামে সাহা মিয়ার ছেলে শামীম মিয়ার কাছে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

খবর পেয়ে হৃদয় মিয়া গতকাল রোববার (১৭ মার্চ) আওয়ালপাড়ায় গিয়ে শামীমের বাড়ি থেকে স্ত্রীকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ শহরে নিয়ে আসেন। এ সময় শামীম হৃদয় মিয়ার পথ অবরুদ্ধ করেন এবং মীমকে শামীম তার স্ত্রী দাবি করে দু’জনে ধস্তাধস্তি শুরু করেন।

পরে স্থানীয়রা আসল ঘটনা জানতে তাদের তিনজনকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। সালিশে মীম তার স্বামী হৃদয় মিয়ার সঙ্গে চলে যেতে চান। এ সময় শামীম মিয়া উপস্থিত লোকজনকে একটি কাবিননামা দেখিয়ে জানায়, ছালমা আক্তার মীম তার পূর্বের স্বামী হৃদয় মিয়াকে তালাক দেয় এবং এর তিন দিন পর মীমকে সে বিয়ে করে।

শামীম মিয়া দাবি করেন, মীম তার বিবাহিত স্ত্রী। তবে মীমের দেওয়া তালাকনামার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি এই দ্বিতীয় স্বামী শামীম। সালিশের একপর্যায়ে শামীম মিয়া উপস্থিত লোকজনের সামনেই প্রকাশ্যে মীমকে ও তার স্বামী হৃদয় মিয়াকে মারপিটের হুমকি দেয়। এরপর জোর করে সবার সামনেই মীমকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় শামীম মিয়া।

এ বিষয়ে হৃদয় মিয়া জানান, বকশীগঞ্জ উপজেলার আওয়ালপাড়া গ্রামে যাওয়ার পর আমি স্ত্রীর সন্ধান পাই। তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সামনে আসার পর কয়েকজন লোক আমাদের গতিরোধ করে। পরে সালিশ বসিয়ে উপস্থিত লোকজন আমার স্ত্রীকে শামীমের হাতে তুলে দেয়। পরে প্রকাশ্যে শামীম উপস্থিত লোকের সামনেই আমার স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়। এখন আমার স্ত্রী কোথায় এবং কী অবস্থায় আছে? আমি জানি না। তারা যেকোনো সময় আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে পারে। আমি আমার স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নেব।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি কিছু জানি না। কেউ আমার কাছে বিচার নিয়ে এলে আমি ন্যায়বিচার করতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।