লন্ডনে সিলেটের শিউলী খুন : স্বামী পলাতক

152

অনলাইন ডেস্ক: একসঙ্গে ২ বছর আগে বাংলাদেশি যুবক হাবিবুর রহমান মাসুম ও কুলসুম আক্কার শিউলী লন্ডনে পড়তে যান। এর আগে তাদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু তাদের সে সম্পর্ক বেশি দিন স্থানীয় হলো না। ইংল্যান্ড যাবার দেড় বছরের মাথায় তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

জানা যায়, ইংল্যান্ডের ব্রাডফোর্ড শহরে হত্যার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি গৃহবধূ কুলসুম আক্তার শিউলী(২৭)। ৬ এপ্রিল বিকালে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান স্বামী হাবিবুর রহমান মাসুম(২৫)। রোজা রেখে ইফতার করার সুযোগও পায়নি কুলসুম আক্তার শিউলী। নিজের ৫ মাস বয়সী সন্তানের সামনেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে স্বামী হাবিবুর রহমান মাসুম।

জানা যায়, শিউলী ও হাবিবুর মাসুম দুইজনের বাড়িই বিশ্বনাথ উপজেলায়। দুই বছর আগে স্টুডেন্ট ভিসায় তারা আসেন ব্রিটেনে। ৫ মাস আগে এক পুত্র সন্তান হয়। দুইজনের সংসারে ছোটখাটো সমস্যা থেকে এক পর্যায়ে বড় আকার ধারন করে। হাবিবুর রহমান মাসুম একদিন ছুরি হাতে নিয়ে স্ত্রীর দিকে তেড়ে গেলে শিউলী পুলিশ ডাকে। পুলিশ এসে বের করে দেয় স্বামীকে। এরপর থেকে ২ জন আলাদা থাকা শুরু করেন।

মাসুম চলে যায় বার্নলী শহরে। আর শিউলীকে সোশিয়াল সার্ভিস সন্তানসহ নিয়ে যায় ব্রাডফোর্ড শহরে। শনিবার বিকালে ইফতারের আগে খাবার কেনার জন্য সন্তানকে নিয়ে ব্রাডফোর্ডে একটি দোকানে যাওয়ার সময় স্বামী ছুরিকাঘাত করে শিউলীকে। ২৫ বছরের মাসুম স্ত্রীকে নির্মম ভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পালাতক রয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশ খুঁজছে মাসুমকে। এরই মধ্যে তার ছবি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর মাসুম তার স্ত্রীকে চারবার গলায় ছুরিকাঘাত করে। স্বামীর ছুরিকাঘাতেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে অসহায় স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হাবিবুর মাসুম।
এদিকে, স্থানীয় এক দোকানদার জানান, যে নারীকে হত্যা করা হয়েছে সে তার দোকান থেকে নিয়মিত পণ্য কিনতো। সে যখন শনিবার কাজ করছিলো তখন তার দোকানের পাশে চিৎকার শুনে বের হন। এ সময় দেখেন সেই নারী রাস্তায় রক্তাক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। আর তার পাশেই ছিলো পাঁচ মাস বয়সী শিশুটির পুশ চেয়ার। এ সময় রাস্তা দিয়ে একজন ডাক্তার যাচ্ছিলেন, যে ওই নারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
কারও সাথে মাসুমের যোগাযোগ থাকলে বা মাসুমকে যদি কেউ দেখে থাকেন তাহলে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।