১৪৩১ বঙ্গাব্দ বর্ষবরণের উৎসবে মাতোয়ারা সিলেট

3

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম :বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। সুদীর্ঘকাল থেকে পহেলা বৈশাখ বাঙালির এই উৎসব উদযাপন হয়ে আসছে। এদিনে অস্প্রদায়িক বাঙালি জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা নববর্ষের উৎসবে মাতোয়ারা হয়। গলা মেলায় রবি ঠাকুরের অমর গান- ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’র সুরে।

বাঙালির এই প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ভারতবর্ষে মোগল সম্রাজ্য পরিচালিত হতো, হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে। আর হিজরি পঞ্জিকা চাঁদের উপর নির্ভরশীল। যেহেতু কৃষকদের কৃষি কাজ চাঁদের হিসাবের সাথে মিলতো না, তাই তাদের অসময়ে খাজনা দেয়ার সমস্যায় পরতে হতো। সেই কারণে খাজনা আদায়ে কৃষকদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সম্রাট আকবর বর্ষ পঞ্জিতে সংস্কার আনেন। তখনকার বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সম্রাট আকবরের আদেশে সৌর সন ও হিজরি সনের উপর ভিত্তি করে বাংলা সনের নিয়ম তৈরি করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে প্রথম বাংলা সন গণনা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবেই খাজনা আদায়ে এই গণনা কার্যকর শুরু হয়েছিল ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে।

পূর্বে ফসল কাঁটা ও খাজনা আদায়ের জন্য এই বছরের নাম দেয়া হয়ে ছিলো ফসলি সন। পরে তা বঙ্গাব্দ আর বাংলা সন করা হয়। তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা, শুল্ক দিতে হতো কৃষকদের। তাই তখন থেকেই সম্রাট আকবর কৃষকদের জন্য মিষ্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। হালখাতার প্রচলনও সম্রাট আকবরের সময় থেকেই ব্যবসায়ীরা করেছে।

আর বর্তমানের বাংলা সন এসেছে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে। বাংলাদেশে এই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল শুভ নববর্ষ পালন করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকেই মঙ্গল-শোভাযাত্রা বাঙ্গালির নববর্ষ উদযাপনের একটি প্রধান আকর্ষণ।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা অনুষদ থেকে আয়োজিত যে মঙ্গল-শোভাযাত্রার বের করে, সেটিকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষাণা করে।

বাংলাদেশে নববর্ষ ১৪ এপ্রিল পালিত হলেও পশ্চিম বঙ্গে তা ১৫ এপ্রিল পালন করা হয়। কারণ, ভারতে হিন্দু সম্প্রদায় তিথি পঞ্জিকা অনুসরণ করে থাকে। বাংলাদেশে আধুনিক বাংলা বর্ষ পঞ্জিকায় গ্রেগরীয় পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা একাডেমি কর্তৃক ১৪ এপ্রিল বাংলা বছরের প্রথম দিন নির্দিষ্ট করা হয়।

এদিকে, সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনের শুরুতেই পহেলা (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হবে।
সকাল ১০ টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

অপরদিকে নববর্ষ উপলক্ষে শ্রীহট্র সংস্কৃত কলেজে আনন্দলোক, ব্লুবার্ড স্কুলে শ্রুতি নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এছাড়াও, নববর্ষ উপলক্ষে ৭দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে ক্বিনব্রিজের নিচে আলী আমজাদের ঘড়িঘরের সামনে।

বিকাল তিনটায় এই মেলার উদ্বোধন করবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।