ব্যতিক্রম ধর্মী ‘ধুছনির দই’ স্বাদে অতুলনীয়

10

এম,এ আহমদ আজাদ,বড়লেখা: সারাদেশের মধ্যে ব্যতিক্রম ধর্মী দই। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। ঐ এলাকায় খুবই শুধু নয় সারা সিলেট বিভাগের মধ্যে অত্যান্ত জনপ্রিয় এই ধুছনি দই। মাধককুন্ডে যারা পর্যটন করতে যান তারা ধুছনি দই না খেয়ে ফিরেন না। পর্যটকদের প্রধান পছন্দ বড়লেখার ধুছনি দই। ইদের ছুটিতে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গিয়ে ধুছনি দই খেয়ে খুবই স্বাধ পেয়েছি। উল্লেখ্য যে,
বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নে বর্নির ধুছনির দই স্বাদে অতুলনীয় ।
এই বিশেষ দইয়ের তৈরি হয় হাকালুকি হাওর পাড়ের গরু ও মহিষের দুধ দিয়ে। কিন্তু প্রচার প্রচারণা না থাকায় এই বর্নি ধুছনির দইয়ের বাজার সারাদেশে চাহিদা ব্যাপক ভাবে হচ্ছেনা। যারা জানেন তারাই শুধু এই ধুছনি দই এর ক্রেতা। তবে দিনদিন এই দইয়ের চাহিদা বাড়ছে বলে জানান দই এর কারিগর গৌরাঙ্গ দাস(ঝাড়ন)।
তিনিবলেন, গোল বাঁশের তৈরি ঝুড়ি (ধুছনি)তে এ দই পাতা হয় বলে এ দইয়ের নাম দেয়া হয়েছে ধুছনির দই।
গত বৃহস্পতিবার আমরা কয়েক বন্ধু একটি দল গিয়েছিলাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা মধাব কুন্ডে পিকনিক করতে। সাথে ছিলেন বন্ধু আব্দুল মুকিত এবং জুয়েল মেম্বার। পিকনিক শেষে বাড়ি ফেরার পথে তখন বিকাল ৪ টা বাজে। হাতে কোন কাজ নেই স্থানীয় এক বন্ধু প্রস্তাব করলেন চলেন ঘুরে আসি এবং নতুন একটা জিনিসের সাথে পরিচয় করে দেই। বড়লেখা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরবর্তী বর্নি ইউনিয়নের নিহারী ফড়িঙ্গা গ্রামের গৌরাঙ্গ দাসের (৫৫) বাড়ির তার ছোট টং দোকানে গেলে দেখা যায় বাঁশ-বেতের তৈরি ছোট-বড় বাঁশের ঝুড়িতে গরম ও ঘনো গরু ও মহিষের দুধ দিয়ে করা দই । ওই গ্রামের গৌরাঙ্গ দাস বলেন, এই ধুছনি (বাঁশের ঝুড়ি)এর গায়ে ক্ষীরের মতো ময়দার প্রলেপ দিয়ে ঝুড়ির ছিদ্রগুলো বন্ধ করে তা শুকিয়ে সেই ধুছনিতে গরু মহিষের দুধ ঢেলে এই বিশেষ দই পাতা হয়।
গ্রামের প্রবীণ দই কারিগর ঝাড়ন দাস বলেন, আমাদের বাপ-দাদা এই দই তৈরি করতেন। এ দই খাটি দুধের তৈরি দই। এতে কিছুই মিশাই না। হাওর পাড়ের গ্রামগুলোতে খাটি মহিষের দুধ পাওয়া যায়। আমরা তা সংগ্রহ করে নিজের হাতে ধুছনি দই বানাই। এ দই কাত করলেও পড়ে না। খেতেও বেশ স্বাদ হয় এ দই। এটা তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা। তিনি বলেন হাওর পারের গ্রামগুলোতে এখনোও গরু-মহিষের নির্ভেজাল দুধ পাওয়া যায়। দইয়ের পাত্র ও স্বাদের ভিন্নতার জন্য এ দইয়ের আলাদা চাহিদা রয়েছে। দই এর পাত্রটি বাঁশ-বেত দিয়ে বানানো হয়। ধুছইন বানানোর জন্য কারিগর আছেন, তারাই চাহিদামতো পাত্র বানিয়ে দেন। পাত্রটির স্থানীয় নাম ‘ধুছনি’। ধুছনিতে পাতা হয় বলে এর নাম দেয়া হয়েছে ‘ধুছনির দই’।
অনুপম দাশ বলেন তারা ,দুই কেজি ও পাঁচ কেজি ওজনের ধুছনিতে তাঁরা দই পাতেন (বসান)। এক কেজি দইয়ের দাম তিনশত পঞ্চাশ(৩৫০) টাকা। প্রতিদিন কিছু না কিছু দইয়ের অর্ডার থাকে। কাষ্টমারের বাড়িতে দই পৌঁছে দেয়া হয়, কখনো কাষ্টমার এসে আমাদের বাড়ি থেকে এবং দোকান দই নিয়ে যান। তবে কোন সময় দইয়ের চাহিদা না থাকলে এ দুধ দিয়ে ছানা তৈরি করে মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন। এখন প্রতিনিয়তই দইয়ের চাহিদা বেরে যাচ্ছে। সারা বাংলাদেশ থেকে হাকালুকির পাড়ে ছোট গ্রামে মটিতে দই খেতে আসেন।
যারা জানেন তাদের বিয়ে,অন্য অনুষ্ঠানে এক-দুই মন দই থাকে সরবরাহ করে থাকেন।হাকালুকি হাওর পারে একটি বাজারে সকালবেলা দুধের হাট বসে। গ্রামের গরু-মহিষের মালিক সেই হাটে টাটকা দুধ বিক্রি করেন। সেখান থেকে আমরা দুধ কিনে দই তৈরি করি। বড়লেখা,জুড়ী, ও সিলেটের বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জে,হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, মাধবপুরে এ দইয়ের চাহিদা আছে।
হাকালুকির পাড়ে অজমীর গ্রামের সুখলাল দেব বলেন, আমরা বহু দিন থেকে ধুছনীর দই খেয়ে আসছেন। মহিষের দুধের এ দই স্বাদই অন্য রকম। আমাদের আত্মীয়দের কাছে ধুছনির দই এর চাহিদা রয়েছে। তারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই বিশেষ ধুছনি দই নিয়ে থাকেন। ব্যাপক প্রচার হলে এ দই সিলেটের বিভিন্ন জেলার বাহিরেও অনেক চাহিদা এই দইয়ের। এই দইয়ের সুনাম এক সময় সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরবে এবং দই বিক্রিও আরও বৃদ্ধি পাবে সেই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।