দোয়ারাবাজারে ধর্ষণের পর কলেজ ছাত্রী খুন, খুনী লিটন আটক

27

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধর্ষণের পর কলেজ ছাত্রীকে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। পুলিশ ওই ধর্ষককে মঙ্গলবার সকালে আটক করেছে। তার নাম লিটন আহমদ (২০), সে সুনামগঞ্জ সদর থানার বল্লভপুর গ্রামের খলিল আহমদের ছেলে মোঃ লিটন আহমদ (২০)।। নিহত কলেজ ছাত্রীর নাম তমা আক্তার (১৬) দোয়ারবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও গ্রামের ফরিদ আহমদের মেয়ে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ছিল না পান্ডারগাঁও গ্রামে। ফরিদ আহমদের স্ত্রীও তখন বাড়ীতে ছিলেন না। ফরিদ আহমদ ও তার ছোট ছেলে বাজারে ছিলেন। এই সুযোগে লিটন বাড়ীতে ঢুকে তমাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।রাত সাড়ে আট টায় তমার ছোট ভাই বাড়ীতে এসে দরজা লাগানো দেখে ডাকাডাকি করে টিনের বেড়ার ছিদ্র দিয়ে তার বোনের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে, বুঝতে পারে। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন তমার বাবা ফরিদ আহমদ।

তমার চাচা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী হোসেন দাবী করেছেন, তার ভাতিজিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে খুন করেছে লিটন আহমদ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানান,সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার পান্ডারগাঁও গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে তমা আক্তার (১৮) গত ২৯ এপ্রিল রাত ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তার বসতঘরের চৌকাঠের সাথে ওড়না দিয়ে হাটু ভাজ করা অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে বলে থানায় জানানো হয়। উক্ত সংবাদ পাওয়ার পর দোয়ারাবাজার থানার এসআই মোহাম্মদ আবুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় তিনি ভিকটিমের পিতাসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমের মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন অফিসারদের অবহিত করেন। ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতপূর্বক ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। পরে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন অফিসারগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা ফরিদ আহমদ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দোয়ারাবাজার থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।

মামলা রুজুর পর জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মোহাম্মদ আবুল বাশারসহ থানা পুলিশের একাধিক টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি শনাক্ত করাসহ গ্রেফতারে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মোঃ লিটন আহমদকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লিটন আহমদ ভিকটিম তমা আক্তারকে (১৮) ধর্ষণ পূর্বক হত্যার কথা স্বীকার করে।

এ বিষয় আজ মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল ২০২৪ খ্রি.) দুপুর ২টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্, পিপিএম-সেবা মামলার ঘটনার বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাজন কুমার দাসসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য সদস্যগণ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।