এবার কি মন্ত্রী পাচ্ছে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি?

3

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটেনের জাতীয় সংসদে বর্তমানে প্রতিনিধিত্ব করছেন চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক। দেশটির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই চার জন আবারও ‘নিশ্চিত বিজয়ের’ অপেক্ষায় রয়েছেন। আর দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনের সব নির্বাচনি জরিপে বর্তমান বিরোধীদল লেবার পার্টি আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার দৌড়ে এগিয়ে। ‘যদি’, ‘কিন্তু’ থাকলেও; এবার ব্রিটিশ ক্যাবিনেটে অন্তত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা জায়গা করে নিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে। এমনকি প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে দলের মধ্যেও।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার জন। ঘটনাক্রমে চার জনই নারী এবং বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টির সদস্য। জরিপ এবং জনশ্রুতি অনুযায়ী, লেবার পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে, সেই সঙ্গে এই চার জন যদি পুনর্নির্বাচিত হন, তাহলে এবারই কাটতে পারে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের আক্ষেপ। প্রথমবারের মতো ব্রিটেনের ক্যাবিনেটে জায়গা পেতে পারেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ। এই লড়াইয়ে চারবারের এমপি রুশনারা আলী ও তিনবারের এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকের নাম লেবার পার্টির মধ্যে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো ও পপলার অ্যান্ড লাইমহাউজ আসনে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত হলেই এমপি হওয়া অনেকটা নিশ্চিত। লেবারের পূর্ব লন্ডনের নিরাপদ ও নিশ্চিত এই দুটি আসনের একটিতে গত চার নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসছেন রুশনারা আলী। সিলেটের বিশ্বনাথের ভুরকি গ্রামে জন্ম নেওয়া ৪৯ বছর বয়সী রুশনারা এবারও এ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি মা-বাবার সঙ্গে শৈশবেই লন্ডনে এসেছিলেন।

পূর্ব লন্ডনের অপর আসনটিতে গতবার নানা কাঠখড় পুড়িয়ে স্থানীয় লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বিরোধিতার মুখেও মনোনয়ন ও নির্বাচনি লড়াইয়ে জয়ী হন আফসানা বেগম। গত নির্বাচনে কনজারভেটিভ প্রার্থী শিউন ওককে প্রায় ২৯ হাজার ভোটে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন লেবার পার্টির প্রার্থী আফসানা।
৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ রাজনীতিকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসের শ্যাডওয়েলে। বাংলাদেশে তার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। আফসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনেও লেবার পার্টির প্রার্থী তালিকার শর্ট লিস্টেড প্রার্থী তিনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার এমপির মধ্যে আফসানাই বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সভা সমাবেশে সবচেয়ে বেশি সময় দেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে টানা তিনবারের এমপি। ৪১ বছর বয়সী টিউলিপকে লেবার পার্টির ভেতরে নতুন প্রজন্মের তুমুল সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। লেবার পার্টির নিরাপদ বা সেফ সিট নয় এমন আসনে ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রথমবার লেবারের মনোনয়ন পেয়েই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে চমক সৃষ্টি করেন টিউলিপ। দুবার লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া টিউলিপ আসন্ন নির্বাচনে জিতে এলে, আর নিজের দল লেবার পার্টি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায় তাকেও দেখা যেতে পারে।
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল আসনে লেবার পার্টির মনোনয়নে টানা তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হন ড. রূপা হক। পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ৫২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি কন্যা লন্ডনের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পড়াতেন। কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই কলামিস্ট ও লেখক।
বাংলাদেশ থেকে আসা মোহাম্মদ হক ও রওশন আরা হক দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে সবার বড় রূপা হক। তার মা-বাবা ১৯৭০ সালে ব্রিটেনে আসেন। তার বাবার বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়। খুব সাদাসিধা চলাফেরা ও বিনয়ী আচরণের জন্য নিজ নির্বাচনি এলাকার ভেতরে ও বাইরে রূপা হক সমানভাবে জনপ্রিয়। এবারও নিজ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন তিনি।
লেবার পার্টি নেতা ও লন্ডনের ক্রয়ডন কাউন্সিলের কাউন্সিলার মোহাম্মদ ইসলাম শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্রিটেনের আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সবকটি জনমত জরিপে লেবার পার্টি এগিয়ে রয়েছে। ব্রিটেনের মন্ত্রিসভায় ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা মন্ত্রী হলেও বাংলাদেশি কেউ এখনও হননি। এ নিয়ে ব্রিটেনে বসবাসরত প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশির আক্ষেপ আছে। লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বর্তমান চার এমপি আবার নির্বাচিত হয়ে এলে, আর দলটি ক্ষমতায় আসলে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচবে, এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

শুক্রবার (২৪ মে) টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলার অহিদ আহমদ বলেন, ‘প্রায় চার দশক ব্রিটেনে রাজনীতি করি। প্রায় ৩০ বছর আগে লেবার পার্টি আমাকে এমপির টিকিট দিয়েছিল।’
লেবার পার্টির প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লেবার পার্টি এবার মন্ত্রিসভা গঠন করলে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো কোনও ব্রিটিশ বাংলাদেশি রাজনীতিক প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেটা ব্রিটেনের প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশির প্রত্যাশা।’

উল্লেখ্য, লন্ডনের ওয়েস্টহাম বেকটন ও রচডেলের দুটি আসন থেকেও লেবার পার্টির প্রার্থী তালিকায় দুজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি রাজনীতিবিদের নাম রয়েছে।