পাবনায় সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর মুকুল

0

সবুজ সিলেট ডেস্ক: ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে শীতের বিদায়লগ্নে প্রকৃতি রঙ-বেরঙে সেজেছে। চারদিকে সবুজের সমাহার। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাবনার ঈশ্বরদীতে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে নাক ফুলের মতো লিচুর সোনালি মুকুল। এরই মধ্যে ভালো ফলন পাওয়ার আশায় কৃষকরা লিচু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে।

আবহাওয়া অনুকূল, উর্বর মাটির কারণে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষিতে বেশ সমৃদ্ধ। লিচু উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ লাভ করায় এ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের মানুষ এখন লিচু চাষের দিকে ঝুঁকেছে। মাঘ মাসের শেষ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে লিচুর মুকুল আসতে শুরু করে। ফাল্গুনের শেষে লিচুর সোনারঙা এসব মুকুল ফোটে। চৈত্রের শুরুতে ফুলগুলো কুঁড়িতে রূপ ধারণ করে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এসব গাছে গাছে টকটকে লাল লিচুর দেখা মিলবে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হয়ে থাকে।
সরজমিনে দেখা যায়, বাগানগুলোতে লিচুর মুকুল আসার আগে থেকে লিচু চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাছের গোড়ায় ড্রেন করা, পানি দেওয়া, স্প্রে করা সহ লিচু গাছের পরিচর্যা শুরু হয়ে গেছে। কিছুদিন পর ফুল ফুটবে এবং পরে তা থেকে লিচুর গুটি বের হবে। তখন কীটনাশকসহ বিভিন্ন ভিটামিন স্প্রে করবে কৃষকরা। এ ছাড়াও লিচু মোটা জাতকরণে মাটিতে জৈবসার, হরমোনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার প্রয়োগ করবেন তারা।

ঈশ্বরদী উপজেলার লিচু চাষিরা জানান, এ বছরে লিচুর মুকুল আসার সময় হালকা বৃষ্টি হওয়ার কারণে পূর্ণাঙ্গ মুকুল বের হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব মুকুল ফুটতে শুরু করবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, ফাল্গুনের শুরুতে লিচুর মুকুল বের হতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচু ফলন বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতি বছরই লিচু গাছে মুকুল আসার আগে ও পরে রোগ বালাই দমন ও পরিচর্যা সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এবারও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সর্বক্ষণ পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পাবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

জাতীয় পদক প্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল ওরফে লিচু কিতাব জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হবে। চলতি বছরে ফলন বেশি হলে ধারণা করছি ঈশ্বরদীতে ৫ থেকে ৬শ’ কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হবে।