ভারত থেকে এলো আরও ৬৫০ টন আলু

0

অনলাইন ডেস্ক: বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলু আমদানির অনুমতির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। বর্তমানে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আলু আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা। দেশের বাজারে চাহিদা থাকা পর্যন্ত আলু আমদানি অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

বুধবার (৩ এপ্রিল) বন্দর দিয়ে একদিনেই ২৬টি ট্রাকে ৬৭৮ টন আলু আমদানি হয়েছে। মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ১৩টি ট্রাকে ৩৪৮ টন আলু আমদানি হয়েছিল। এছাড়া সোমবার বন্দর দিয়ে দুটি ট্রাকে ৫৭ টন আলু আমদানি হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বন্দর দিয়ে আলু আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারক সাহাবুল ইসলাম বলেন, সরকার দেশের বাজারে আলুর সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ১৫ মার্চ পর্যন্ত আলু আমদানির অনুমতির মেয়াদ দেওয়া ছিল। পরবর্তী সময়ে যা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করে সরকার। আবারও সেই সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আলু আমদানির অনুমতি পাওয়া আমদানিকারকরা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি শুরু করেন। কিন্তু আলু আমদানি করে লোকসান হওয়ায় মাত্র ৪ দিন আমদানি হওয়ার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

ভারত থেকে আলু আমদানি করে বন্দরে যে দামে বিক্রি হচ্ছিলো, বাজারে তার চেয়েও কমে বিক্রি হচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে করে আলু আমদানি করে লোকসান গুণতে হওয়ায় আলু আমদানি বন্ধ করে দেন আমদানিকারকরা। সম্প্রতি আবারও দেশের বাজারে আলুর দাম বাড়লে ও আমদানির মেয়াদ বাড়ানো হলে আলু আমদানি শুরু করেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। বর্তমানে ভারত থেকে কার্ডিনাল জাতের আলু আমদানি করে সরকারের কেজি প্রতি শুল্ক ৭ থেকে ৮ টাকা যোগ করে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দেশের বাজারে বর্তমানে কার্ডিনাল জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা দরে, যার কারণে এই জাতের আলু আমদানি করছেন না আমদানিকারকরা। বর্তমানে বন্দর দিয়ে সাদা ডায়মন্ড আলু আমদানি হচ্ছে যা শুল্ক পরিশোধ করে বন্দরে এসে দাম পড়ছে ২৮ থেকে ২৯ টাকার মতো। বন্দরে এই জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে। দেশীয় আলুর দাম বাড়ায় এই জাতের আলু আমদানিতে কিছুটা পড়তা থাকায় আমদানিকারকরা আলু আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই বন্দর দিয়ে অনিয়মিতভাবে আলু আমদানি হচ্ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে বন্দর দিয়ে আলুর আমদানি খানিকটা বেড়েছে। আর আলু আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় বেড়েছে। সেই সাথে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয় অনেকটা বেড়েছে। এছাড়া আলু যেহেতু কাঁচা পণ্য তাই কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত যেন আমদানিকারকরা বন্দর থেকে আলু খালাস করে নিতে পারেন সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, দেশে আলুর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। হিলি স্থলবন্দরের ৫০ জন আমদানিকারক প্রায় ৩৫ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতি পেয়েছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। ১৫ মার্চ পর্যন্ত আলু আমদানির অনুমতির মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ও ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সেই সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ায় ও দেশের বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় এরপর আবারও আমদানির অনুমতির সময়সীমা ১ মাস বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করে সরকার। এই সময়সীমা পর্যন্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত আমদানিকারকরা আলু আমদানি করতে পারবেন। বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত এসব আলু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে যাতে দ্রুত তারা খালাস করে নিতে পারেন।

প্রসঙ্গত, সরবরাহ কমের অজুহাতে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলে গতবছরের ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। দুদফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ ডিসেম্বর সময়সীমা নির্ধারণ করে সরকার। পরবর্তী সময়ে সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর থেকে আলু আমদানি বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে আবারও দেশে আলুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে ১ ফেব্রুয়ারি আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দর দিয়ে আলু আমদানি শুরু হয়েছিল।