শুকরের মাংস খেয়ে মৃত্যুর মুখে নারী

2

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে পরিচিত শুকরের মাংস, যদিও ধর্মীয় বিধিনিষেধ আর পরিচ্ছন্নতার কারণে এ মাংস হারাম বলে মেনে থাকেন ইসলাম ধর্মানুসারীরা। সম্প্রতি শুকরের মাংস খেতে গিয়েই প্রায় মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন এক নারী। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ৬৮ বছর বয়সী নারী সেলিয়া টেলো খুব শখ করেই শুকরের মাংসের তৈরি একটি খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই গলা থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল মাংসের সঙ্গে কোনে হাড়ের টুকরো হয়তো গলায় আটকে গেছে। তাই দেরি না করেই রওয়ানা হন হাসপাতালের উদ্দেশে, সেখানে গিয়ে জানতে পারেন হাড় নয় বরং গলায় একটি লোহার পেরেক আটকেছে।
সেলিয়া টেলো বলেন, আমি অসুস্থ বোধ করছিলাম। আমি হাসপাতালে এসেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আমার গলায় একটি হাড় আটকেছে। আমার মাথায় কখনই আসেনি যে আমার গলায় হাড় নয় বরং একটি পেরেক ঢুকেছে।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, তার গলার ধমনী ছিড়ে গেছে। তাই সুস্থ হওয়ার জন্য অস্ত্রোপচার করতে হবে।
সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, ‘টেলো গলায় কাঁটা নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এসময় পরীক্ষা করে তার গলায় পেরেক আবিষ্কার করেন চিকিৎসকরা। এতে দেখা যায় পেরেকটি ধমনী ছিদ্র করে ফেলেছে। পরে টোলোর অস্ত্রোপচার করা হলে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
হাসপাতালের সার্জন জুয়ান দিয়েগো কুইপাল অ্যালকেড বলেন, দুর্ঘটনাক্রমে শুকরের মাংসের সঙ্গে এক টুকরো ধাতব বস্তু খেয়ে ফেলেছে। মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে এমন একটি জমাট রক্তপিণ্ড বিচ্ছিন্ন করার কারণে পেরেকটি সাবধানে অপসারণ করতে হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে সাতদিন হাসপাতালে অবস্থান করে সেলিয়া টেলো। এমনকি অস্ত্রোপচারের পরের দিনই চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করেন এই নারী।