নবীগঞ্জের ৫ প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে নানা আলোচনা

2

নবীগঞ্জ, (হবিগঞ্জ) থেকে॥ নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধী ৫ আলোচিত প্রার্থীর হলফনামার সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থীদের হলফনামাকে বিভ্রান্তিকর ও দায়সারা গোচর বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। তাদের ধারণা, অধিকাংশ প্রার্থী বৈধ আয়ের উৎস, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। কৌশলে তথ্য এড়িয়েছেন। নবীগঞ্জ উপজেলায় যে ৮ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন এর মধ্যে মূল আলোচনায় রয়েছেন ৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি পন্থী ১ জন ও আওয়ামীলীগ পন্থি ৪ জন। তাদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখ যায়, কারও কারও বাৎসরিক আয় প্রকৃত আয় থেকে অনেক কম দেখানো হয়েছে। জমি ও স্বর্ণালংকারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। কয়েকজন প্রার্থীর আধুনিক ও উচ্চমূল্যের গাড়ি থাকলেও হলফনামায় কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম ২ বারের চেয়ারম্যান, ১ বারের ভাইস চেয়ারম্যান ও ২ বারের ইউপি চেয়ারম্যান তিনি। তার হলফনামায় দেখা গেছে শুভঙ্করের ফাঁকি। আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত, পেশা কৃষি। তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চিল তা ২০০৮ সালে খারিজ হয়ে গেছে। তিনি এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস কৃষি খাত, বাড়ি ও দোকান ভাড়া। এই দুই খাত থেকে তার নিজের বাৎসরিক আয় ২০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজের নগদ টাকা রয়েছে ৪ লাখ টাকা। ব্যাংকে রয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক ঋণ, পরিবহন ও মোটর সাইকলে কিছুই নেই। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ১টি টিভি, ১টি ফ্রিজ, ১টি ল্যাপটপ, ১টি মোবাইল যার মূল্য ধরা হয়েছে ১লাখ টাকা। নিজের স্বর্ণালংকার আছে ৬ ভরি যার বাজার মূল্য ৪ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে স্বর্ণ রয়েছে ১০ ভরি বাজার ৭ লাখ টাকা। আবাবপত্র আলমারি, খাট, ড্রেসিন টেবিল, সোফা, চেয়ার টেবিল যার মূল্য ২৫ হাজার টাকা। অন্যান্য আসবাবপত্র ৩৭ হাজার টাকা। ২ লাখ টাকা মূল্যের কৃষি জমি রয়েছে তার। ৫০ হাজার টাকা মূলের ২০ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। তার স্ত্রী নবীগঞ্জ গন্ধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত থাকলে ও তা হলফ নামায় উল্লেখ করা হয়নি। কোনো ব্যাংক বা অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ বা দায়দেনা নেই। চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত যুহগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান শেফুর হলফনামায় দেখা যায়, তিনি স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ১২ টি মামলা রয়েছে। পেশায় ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৩ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ৪ লাখ, এবং ব্যাংকে রয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯শ ২০ টাকা। স্ত্রীর এক উপঢৌকন ২০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার আছে যার মূল্য দেখানো হয় নাই।
এছাড়া স্থাবর সম্পত্তি মধ্যে নিজ নামে কোন সম্পত্তি নেই, হলফ নামায় উল্লেখ রয়েছে পৈতৃক সম্পত্তি এখনও বন্টন করা হয়নি। কোন দায়দেনা ও ব্যাংক লোন নেই। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড সুলতান মাহমুদ শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি পাশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ২ টি বিছারাধীন মামলা রয়েছে। পেশায় আইনজিবী। পেশা থেকে বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। স্ত্রীর ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ১৮ লাখ টাকা। ব্যাংক হতে ডিপিএসএর লভ্যাংশ আয় ৭২ হাজার ২শ ৮৫ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ৬ লাখ, ১৭ হাজার ৯শ ৯১ টাকা, স্ত্রী ৫০ হাজার টাকা, এবং ব্যাংকে রয়েছে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ২শ ২৮ টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ আছে ১৭ লাখ ১হাজার ২শ ১৫ টাকা। কোম্পানীর শেয়ার আছে সূর্যমুখী জেনারেল হাসপাতালে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র আছে ৩ লাখ টাকা, পরিবহন ১টি প্রাইভেট কার যার মূল্য ৬লাখ ৫০ হাজার টাকা। নিজ নামে উপঢৌকন ১৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার আছে যার মূল্য দেখানো হয় নাই। স্ত্রী আছে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার। এছাড়া স্থাবর সম্পত্তি মধ্যে নিজ নামে ১শ ২০ শতক, যার মূল্য ৫০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ৯শতক যার মূল্য ৪লাখ ৬০ হাজার টাকা। অকৃষি জমি ৭.৩৫ শতক যার মূল্য ৪০লাখ ৬৫ হাজার টাকা। যৌত মালিকানায় পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ২.৪৫শতক। আবাসিক দালান ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোনো ব্যাংক বা অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ বা দায়দেনা নেই। আরেক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এমদাদুর রহমান মুকুল ৩ বারের ইউপি চেয়ারম্যান তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদুর রহমান মুকুল হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা তিনি বিএ বিকম পাশ, পেশায় ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে ৩টি ফৌজদারি মামলা চিল এখান থেকে ২টি মামলায় খালাস ১টি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি কৃষি খাতে তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখান নাই। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ১লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্ত্রীর চাকুরী হয়ে বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকা। ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ভাতা পেয়েছেন ১লাখ ২০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজের নগদ টাকা রয়েছে ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ৩০ টাকা। স্ত্রীর নামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩৩ টাকা। ব্যাংকে আছে ৩লাখ ৩০ হাজার ৯শ ৭০ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯শ ৬৭ টাকা। ব্যাংক ঋণ, পরিবহন ও মোটর সাইকলে কিছুই নেই। নিজ নামে কোন স্বর্ণ নেই স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে যার বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ১টি টিভি, ১টি ফ্রিজ, ১টি মোবাইল, ফ্যান যার মূল্য ধরা হয়েছে ১লাখ টাকা। আবাবপত্র খাট, সোফা, আলনা, চেয়ার, টেবিল, যার মূল্য ১ লাখ টাকা। অন্যান্য আসবাবপত্রের মধ্যে ১টি বন্দুক, ১০ গুলি, ২২ বোরের ১টি পিস্তল ৬০ হাজার টাকা। নিজ নামে কোন কৃষি জমি নেই পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি ৪ একর, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। কোনো ব্যাংক বা অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ বা দায়দেনা নেই।
আরেক প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুলের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা তিনি বিএসএস পাশ, পেশায় ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে ২টি ফৌজদারি মামলা চিল সেগুলো থেকে বেখসুর খালাস পেয়েছেন। তিনি কৃষি খাতে তিনি বাৎসকির আয় ১লাখ ৭০ হাজার। নগদ টাকার পরিমাণ ৩লাখ ৭১ হাজার ৬শ ১২ টাকা। ব্যাংকে রয়েছে ৪লাখ ৩৫ হাজার ৭শ ৫৮ টাকা। কৃষি ব্যাংকে আছে ৪২ হাজার ৬শ ২৯ টাকা। স্ত্রীর নামে ১৫ ভরি স্বার্ণালংকার রয়েছে ৯০ হাজার টাকা। স্থারব সম্পত্তি ১শ ১৯ শতক যার মূল্য ধরা হয়েছে ১লা ৯৩ হাজার ৯শ ৭৫ টাকা। ব্যাংক ঋণ, পরিবহন ও মোটর সাইকলে কিছুই নেই। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ১টি টিভি, ১টি ফ্রিজ, ১টি মোবাইল, ফ্যান যার মূল্য ধরা হয়েছে ১লাখ টাকা। আসবাবপত্র খাট, সোফা, আলনা, চেয়ার, টেবিল, যার মূল্য ১ লাখ টাকা। কোনো ব্যাংক বা অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ বা দায়দেনা নেই। যার ফলে উপজেলার সচেতন মহলে প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদেও হফল নামায় অনেক কিছু ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।