গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান ৩ প্রার্থীর সাথে আ’লীগের নেতাকর্মী তিন ভাগে বিভক্ত

13

সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : ৬ষ্ঠ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সমগ্র দেশের ন্যায় গোলাপগঞ্জে আগামী ৮মে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীরা বিজয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রদানের মাধ্যমে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ভোট প্রার্থনা করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটের মাঠে বিরামহীন ভাবে চষে ভেড়াচ্ছেন। নির্বাচনের মাত্র ৫দিন বাকি থাকলেও উপজেলা জুড়ে ভোটাররা রয়েছেন এখনও নীরব। সমগ্র উপজেলার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায় শুধু প্রার্থীরাই তাদের সমর্থীতদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন আর ভোটাররা রয়েছেন এখনও নীরব। অবশ্য ভোটারদের এ নীরবতা নতুন বিষয় নয়। গত প্রায় ১০/১৫ বছর ধরে নির্বাচন আসলে এলাকায় আর আগের মতো ভোটের আমেজ দেখা যায়নি। ভোটাররা থাকেন নীরব। এমনকি ভোট কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে চিন্তিত রয়েছে প্রার্থীরা।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতিক না থাকায় এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অপর কোন দলের প্রার্থী নির্বাচনে না থাকায় নির্বাচনী মাঠে নিজেদের মাঝে প্রতিদ্বন্ধী চলছে। পাশাপাশি এ উপজেলায় নবীন ও প্রবীনদের মাঝে লড়াই চলছে। আর এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল থাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে বিজয়ী করতে নির্বাচনী মাঠে থাকতে দেখা যায়। অনেক নেতাকর্মী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা যায়। যদিও গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে ৩ প্রার্থীই আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতা। দলের মধ্যে তাদের পদ পদবীও রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ৩ প্রার্থীর সাথেই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা করতে দেখা যায়। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। অনেক জনপ্রতিনিধিও তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে বিপক্ষের প্রার্থীকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনী মাঠে প্রচরণা চালাচ্ছেন।
উপজেলার নির্বাচনী মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফিকে নিয়ে গুণীজন ও অভিজ্ঞ মহলসহ অনেকেই তাকে বিজয়ী করার বিষয় নিয়ে ভাবছেন। উপজেলা পরিষদ ও সুনামধন্য ঐতিহ্যবাসী উপজেলাকে পরিচালানা করার জন্য একজন যোগ্য ব্যক্তির প্রয়োজন বিধায় তাকে পুণরায় নির্বাচিত করার বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতা কর্মী তার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। সমগ্র উপজেলা জুড়ে ওই প্রার্থীর বিশাল সুনাম রয়েছে। পাশাপাশি তিনি তার কৃতিত্বের জন্য ইতোমধ্যে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সাফল্য অর্জন করেছেন। তাছাড়া তার পরিবারের সকলই আওয়ামী লীগ পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে তার রয়েছে সু-সম্পর্ক। তিনি দির্ঘদিন ধরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অসহায় নিপীড়িত মানুষজনের পক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যার জলন্ত প্রমান পাওয়া যাবে ৮ মে নির্বাচনের ফলাফলের পর এমন অভিমত জানান পৌর আওয়ামী লীগের নেতা ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ।
এদিকে ব্রাজিল যুবলীগের সভাপতি আবু সুফিয়ানও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। যদিও তিনি উপজেলায় নবীন ব্যক্তি তবে তিনি কুশিয়ারা তীরবর্তী অঞ্চলের বসবাস করে বড় হয়েছেন। রিভারবেল্টের ভোটারদের নিয়ে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ওই অঞ্চলে তিনি একক প্রার্থী। পাশাপাশি কুশিয়ারা অঞ্চলে ভোটার সংখ্যাও বেশি। এলাকা ভিত্তিক চিন্তা ভাবনা করলে আবু সুফিয়ানের বিজয়কে উড়িয়ে দেয়া যাবে না বলে কুশিয়ার অঞ্চলের একাধিক ভোটারের অভিমতে জানা যায়। অপর প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহিদুর রাহমান চৌধুরী তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এলাকায় তার সুনামের পাশাপাশি গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের শক্ত একটি গ্রুপ তাকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছেন। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী করতে ৩ প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের পছন্দের প্রর্থীদের নিয়ে উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারানা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ভোটাররাও রয়েছেন দ্বিধা দন্ধের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ের মুকুট পরবেন সে প্রত্যশায় রয়েছেন উপজেলা সাধারণ জনগণ।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জনসহ মোট ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। প্রার্থীরা হলেন- চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর কাদির শাফি (দোয়াত কলম), যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহিদুর রাহমান চৌধুরী (ঘোড়া), ব্রাজিল যুব লীগের সভাপতি প্রবাসী আবু সুফিয়ান (আনারস)।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে- আকমল হোসেন (বই), আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ আজম (টিয়া পাখি), ফরহাদ আহমদ (তালা). মো: নাবেদ হোসেন (চশমা) ও মো: লবিবুর রহমান (টিউবওয়েল)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে- মোছা: নার্গিস পারভিন (কলস) ও সেলিনা আক্তার শিলা (ফুটবল)।
উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের মোট ভোটার রয়েছেন ২লাখ ৭২ হাজার ৪৮৬ জন। সমগ্র উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭০ জন। মহিলা ভোটার রয়েছেন ১লাখ ৩৪ হাজার ১১৪ জন ও হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২জন। ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট স্থায়ী ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০৩টি। নির্বাচন তফশীল অনুযায়ী আগামী ৮মে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।